ব্যালন ডি’অর ও গোলকিপার: ৬৩ বছর ধরে কেন ব্রাত্য পোস্টের অতন্দ্র প্রহরীরা?
← তালিকায় ফিরুন
হালনাগাদ

ব্যালন ডি’অর ও গোলকিপার: ৬৩ বছর ধরে কেন ব্রাত্য পোস্টের অতন্দ্র প্রহরীরা?

১৯৬৩ সালে লেভ ইয়াশিনের পর গত ৬৩ বছরে কোনো গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। অলিভার কান, দিনো জফ ও বুফনরা খুব কাছে গেলেও আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের দাপট এবং মূল্যায়নের জটিলতায় গোলকিপাররা ট্রফি হাতছাড়া করেছেন।
এই পাতায়

মূল বিষয়গুলো

  • ›১৯৬৩ সালে লেভ ইয়াশিন একমাত্র গোলকিপার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয় করেছিলেন।
  • ›২০০২ সালে গোল্ডেন বল জিতেও ব্যালন ডি’অরে তৃতীয় হতে হয় অলিভার কানকে।
  • ›দিনো জফ, জিয়ানলুইজি বুফন ও ম্যানুয়েল নয়্যার ট্রফির কাছে গেলেও শিরোপা পাননি।
  • ›গোল করার তুলনায় গোল ঠেকানোর পারফরম্যান্সের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়াই এই বঞ্চনার প্রধান কারণ।

১৯৬৩ সালে সোভিয়েত কিংবদন্তি লেভ ইয়াশিন যখন ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন, তখন হয়তো অনেকেই ভেবেছিলেন গোলকিপারদের স্বর্ণযুগ শুরু হলো। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, গত ছয় দশকেরও বেশি সময়ে আর কোনো গোলকিপার ফুটবলের এই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার স্পর্শ করতে পারেননি।

আক্রমণভাগের চমক বনাম পোস্টের নীরব লড়াই

ফুটবলে গোল করাকেই সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন ফরোয়ার্ডের শেষ মুহূর্তের গোল সংবাদপত্রের শিরোনাম হলেও, একজন গোলকিপারের পুরো ৯০ মিনিটের অবিশ্বাস্য সেভগুলো আলোচনার আড়ালেই থেকে যায়। গোল উদযাপনে যে উন্মাদনা কাজ করে, গোল ঠেকানোর ক্ষেত্রে সাধারণত সেই মাত্রার মূল্যায়ন দেখা যায় না। ফলে ব্যক্তিগত পুরস্কারের ভোটাভুটিতে সবসময়ই এগিয়ে থাকেন স্ট্রাইকার ও আক্রমণভাগের তারকারা।

কাছে গিয়েও শূন্য হাতে ফেরা কিংবদন্তিরা

ইয়াশিনের পর বেশ কয়েকজন গোলকিপার ব্যালন ডি’অরের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানির অলিভার কান অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে গোল্ডেন বল জিতলেও ব্যালন ডি’অর তালিকায় তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। একইভাবে ১৯৭৩ সালে ইতালির দিনো জফ, ২০০৬ সালে বিশ্বকাপজয়ী জিয়ানলুইজি বুফন এবং ২০১৪ সালে জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে পৌঁছালেও ট্রফি হাতে তুলতে পারেননি।

গোলকিপারদেশব্যালন ডি’অর অবস্থান ও বছর
দিনো জফইতালিদ্বিতীয় স্থান (১৯৭৩)
অলিভার কানজার্মানিতৃতীয় স্থান (২০০২)
জিয়ানলুইজি বুফনইতালিদ্বিতীয় স্থান (২০০৬)

ভুলের চড়া মাশুল ও মূল্যায়নের সংকট

গোলকিপিং পজিশনটি ফুটবলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা। পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলে একটি মাত্র ভুলে গোল হজম করলে আগের সব কৃতিত্ব আড়ালে চলে যায়। যেখানে ফরোয়ার্ডরা একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পরও একটি গোলে নায়ক বনে যান, সেখানে গোলকিপারদের ভুলের ক্ষমা নেই। এই কাঠামোগত বাস্তবতাই ব্যালন ডি’অরের মতো মঞ্চে গোলকিপারদের পিছিয়ে রাখে।

সূত্রprothomalo.com

সাধারণ প্রশ্ন

ইতিহাসে একমাত্র কোন গোলকিপার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন?

১৯৬৩ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কিংবদন্তি গোলকিপার লেভ ইয়াশিন ব্যালন ডি’অর জেতেন।

বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী একমাত্র গোলকিপার কে?

২০০২ বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে জার্মানির অলিভার কান একমাত্র গোলকিপার হিসেবে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার (গোল্ডেন বল) জেতেন।

কোন কোন গোলকিপার ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে এসেছিলেন?

দিনো জফ (১৯৭৩), অলিভার কান (২০০১, ২০০২), জিয়ানলুইজি বুফন (২০০৬) এবং ম্যানুয়েল নয়্যার (২০১৪) ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ তিনে ছিলেন।

সর্বশেষ নিবন্ধ