ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন: ইংল্যান্ডের ২৫ বছরের খরা কাটালেন বায়ার্ন তারকা
← তালিকায় ফিরুন
হালনাগাদ

ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন: ইংল্যান্ডের ২৫ বছরের খরা কাটালেন বায়ার্ন তারকা

বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন লন্ডনে জমকালো আয়োজনে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এই খেতাব অর্জন করলেন। গত মৌসুমে বায়ার্নের হয়ে রেকর্ড ৬১ গোলসহ ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে মোট ৭৩ গোল করেন কেইন। কিলিয়ান এমবাপ্পে দ্বিতীয় ও লামিন ইয়ামাল তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
এই পাতায়

মূল বিষয়গুলো

  • ›হ্যারি কেইন ২০০১ সালের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।
  • ›গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে রেকর্ড ৬১ গোল এবং জাতীয় দলসহ মোট ৭৩ গোল করেছেন।
  • ›কিলিয়ান এমবাপ্পে ব্যালন ডি’অর লড়াইয়ে দ্বিতীয় এবং লামিন ইয়ামাল তৃতীয় স্থান পেয়েছেন।
  • ›১৯৮১ সালে রুমেনিগের পর বায়ার্নের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই ট্রফি জিতলেন কেইন।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। লন্ডনে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় এই পুরস্কার। এর মধ্য দিয়ে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জয়ের কীর্তি গড়লেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান

কেন কেবল ব্যক্তিগত মাইলফলকই স্পর্শ করেননি, ইংল্যান্ডের দীর্ঘ ২৫ বছরের আক্ষেপও ঘুচিয়েছেন। ইংল্যান্ডের ইতিহাসে পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে এই ট্রফি জিতলেন তিনি। তার আগে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস (১৯৫৬), স্যার ববি চার্লটন (১৯৬৬) এবং কেভিন কিগান (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) এই গৌরব অর্জন করেছিলেন। যুক্তরাজ্যের অন্য দুই বিজয়ী হলেন স্কটল্যান্ডের ডেনিস ল (১৯৬৪) এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জর্জ বেস্ট (১৯৬৮)।

ব্যালন ডি’অরের এই লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৯৮১ সালে কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগের পর কেইনই প্রথম খেলোয়াড় যিনি এই সম্মানজনক ট্রফিটি জিতলেন।

রেকর্ড ভাঙা গোলবন্যা ও অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্স

গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের জার্সিতে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেন হ্যারি কেইন, যা বায়ার্নের ইতিহাসে এক মৌসুমে কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে এটি অন্তত ১৯ গোল বেশি। এর আগে ১১ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৬১ গোল করেছিলেন। বুন্দেসলিগায় তিনি সর্বোচ্চ ৩৬টি গোল করে শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার চেয়ে ১৭ গোল বেশি ছিল।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ম্যাচ মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের সামগ্রিক পরিসংখ্যান ছিল চোখধাঁধানো—৬৫ ম্যাচে ৭৩টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে এর চেয়ে বেশি গোল করার নজির কেবল একজনেরই রয়েছে।

বড় ট্রফি ছাড়া বর্ষসেরা: যেভাবে সম্ভাব্য হলো এই সাফল্য

সাধারণত বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী তারকাদের হাতেই ব্যালন ডি’অর উঠতে দেখা যায়। কেইন সেখানে একটি ব্যতিক্রম তৈরি করেছেন। বড় আসরের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও তিনি যেভাবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এই ট্রফি নিশ্চিত করলেন, তার মূল ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  1. ধারাবাহিক গোলস্কোরিং: ক্লাব ও দেশের হয়ে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা।
  2. একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা: বুন্দেসলিগায় ৩৬ গোল করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা।
  3. ঘরোয়া সাফল্য নিশ্চিতকরণ: ক্লাবের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রেখে জার্মান ডাবল জয় করা।
  4. ইউরোপীয় শীর্ষ পর্যায়ে রেকর্ড: ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের খেলোয়াড়দের মধ্যে গোলের একচ্ছত্র ব্যবধান তৈরি করা।
  5. মানসিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব: বড় আসরে দল ছিটকে যাওয়ার পরও নিজের ব্যক্তিগত মানের অবনমন ঘটতে না দেওয়া।

কেইনের আত্মোপলব্ধি ও প্রতিক্রিয়া

পুরস্কার জয়ের পর সম্প্রচারমাধ্যম ডাজনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন নিজের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শুরুতে অনেকেই হয়তো ভাবেননি যে তিনি এত দূর আসতে পারবেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে এবং তাকে নিজের মনের বিরুদ্ধে লড়াই করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস প্রমাণ করতে হয়েছে। এই পরিশ্রমই তাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পা রাখার পরও প্রতিনিয়ত উন্নতি করতে সাহায্য করেছে।

ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ থমাস টুখেল কেইনের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করে এটিকে এক বিরাট সম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রিন্স উইলিয়াম কেইনকে একজন চমৎকার অধিনায়ক ও অসাধারণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রশংসা করেছেন। লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের আর্চ সোমবার রাতে কেইনের এই অবিস্মরণীয় সাফল্য উদযাপনে সোনালী আলোয় আলোকিত করা হয়।

সূত্রbbci.co.uk

সাধারণ প্রশ্ন

হ্যারি কেইন ছাড়া ইংল্যান্ডের আর কোন খেলোয়াড়রা ব্যালন ডি’অর জিতেছেন?

হ্যারি কেইন ইংল্যান্ডের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন। এর আগে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস (১৯৫৬), স্যার ববি চার্লটন (১৯৬৬), কেভিন কিগান (১৯৭৮ ও ১৯৭৯) এবং মাইকেল ওয়েন (২০০১) ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।

গত মৌসুমে হ্যারি কেইনের গোল পরিসংখ্যান কেমন ছিল?

গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল করেন কেইন। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের ম্যাচসহ মোট ৬৫ ম্যাচে তিনি ৭৩টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

এই বছরের ব্যালন ডি’অর ভোটিংয়ে সেরা তিনে কারা ছিলেন?

হ্যারি কেইন প্রথম স্থান অর্জন করে ব্যালন ডি’অর জেতেন। রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে দ্বিতীয় এবং বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

সম্পর্কিত