মিলান ডার্বির সেই ঐতিহাসিক ছবি: রুই কস্তা ও মাতেরাজ্জির শান্ত মুহূর্তের পেছনের গল্প

ছবির সূত্রbbci.co.uk
মূল বিষয়গুলো
- ›২০০৫ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলান ডার্বিতে ইন্টার সমর্থকদের ফ্লেয়ার নিক্ষেপের পর ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
- ›এস্তেবান কাম্বিয়াসোর গোল বাতিলের পর মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং গোলরক্ষক দিদা আহত হন।
- ›মাঠের ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশে রুই কস্তা ও মার্কো মাতেরাজ্জির শান্ত মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন আলোকচিত্রী স্তেফানো রেলান্দিনি।
- ›পরবর্তীতে ৩-০ অগ্রগামিতায় এসি মিলানকে ম্যাচে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
সান সিরোর মাঠজুড়ে তখন লাল ধোঁয়া আর জ্বলন্ত ফ্লেয়ারের স্তূপ। গ্যালারির উত্তাল বিশৃঙ্খলার বিপরীতে মাঠের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবলার—এসি মিলানের শৈল্পিক মিডফিল্ডার রুই কস্তা এবং ইন্টার মিলানের আগ্রাসী ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জি। কস্তার কাঁধে মাতেরাজ্জির কনুই রাখা সেই একক দৃশ্যটি মিলান ডার্বির ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী চিত্র হিসেবে পরিচিত।

সান সিরোর সেই বিশৃঙ্খল রাত
২০০৫ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি হয়েছিল নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। দুই বছর আগেই ইন্টারকে অ্যাওয়ে গোলে বিদায় করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মিলান। ফলে এই ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তেজনা ছিল চরমে। দ্বিতীয় লেগের ৭৩তম মিনিটে ইন্টারের এস্তেবান কাম্বিয়াসোর একটি গোল রেফারি বাতিল করে দিলে গ্যালারি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে।
ইন্টার সমর্থকদের দিক থেকে মাঠে ক্রমাগত ফ্লেয়ার ও বোতল নিক্ষেপ করা শুরু হয়। একটি ফ্লেয়ার সরাসরি মিলান গোলরক্ষক দিদার কাঁধে এসে আঘাত হানে এবং তিনি আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ম্যাচটি সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে এসি মিলানকে মোট ৩-০ অগ্রগামিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

যেভাবে ফ্রেমবন্দি হয় ঐতিহাসিক মুহূর্ত
তৎকালীন রয়টার্সের আলোকচিত্রী স্তেফানো রেলান্দিনি বিবিসি স্পোর্টকে জানান, মাঠে যখন আগুন আর ধোঁয়ার তাণ্ডব চলছিল, অধিকাংশ আলোকচিত্রীর দৃষ্টি ছিল গ্যালারির দিকে। কিন্তু মাঠের মাঝখানের নীরবতা রেলান্দিনির নজর কাড়ে।
মাতেরাজ্জি ছিলেন মাঠের অন্যতম কড়া ও আগ্রাসী ডিফেন্ডার, অন্যদিকে রুই কস্তা ছিলেন পরিচ্ছন্ন ও শৈল্পিক ফুটবলের প্রতিনিধি। সম্পূর্ণ বিপরীত ধারার এই দুই খেলোয়াড় কিছু মুহূর্তের জন্য সব বৈরিতা ভুলে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গ্যালারির অগ্নিকাণ্ড প্রত্যক্ষ করছিলেন। রেলান্দিনি সেই মুহূর্তের মাত্র একটি একক ফ্রেম ক্লিক করেন, যা পরবর্তীতে ফুটবলের চিরন্তন এক শিল্পে রূপ নেয়।
ঘটনার ধারাবাহিক পরিক্রমা
২০০৫ সালের সেই বিখ্যাত মুহূর্তটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তার ধারাবাহিক ধাপসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
- এস্তেবান কাম্বিয়াসোর গোল রেফারি কর্তৃক বাতিল ঘোষিত হয়।
- ইন্টার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠে ফ্লেয়ার ও বিভিন্ন বস্তু ছুড়তে শুরু করে।
- একটি জ্বলন্ত ফ্লেয়ার মিলান গোলরক্ষক দিদার কাঁধে আঘাত হানে।
- রেফারি খেলা স্থগিত করলে খেলোয়াড়রা ধোঁয়াচ্ছন্ন মাঠের মাঝখানে অবস্থান নেন।
- বিশৃঙ্খলার মাঝে রুই কস্তার কাঁধে মাতেরাজ্জি ভর দিয়ে দাঁড়ান এবং রেলান্দিনি সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে ফুটবলের রূপ
২০০৪-০৫ মৌসুমে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নেমেছিল মিলান। অন্যদিকে ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমের পর লিগ শিরোপাহীন ইন্টারের কাছে ইউরোপিয়ান মঞ্চের এই লড়াই ছিল মর্যাদার। তবে সেই উত্তপ্ত রাতের চরম তিক্ততার মাঝেও কস্তা ও মাতেরাজ্জির এই ছবিটি ফুটবলবিশ্বে ডার্বির তীব্রতা এবং একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনন্য দলিল হিসেবে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
সূত্রbbci.co.uk
সাধারণ প্রশ্ন
২০০৫ সালের এসি মিলান বনাম ইন্টার মিলান ম্যাচটি কেন পরিত্যক্ত হয়েছিল?
ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে এস্তেবান কাম্বিয়াসোর গোল বাতিলের পর ইন্টার সমর্থকরা মাঠে ফ্লেয়ার ছুড়তে শুরু করে, যার একটি এসি মিলান গোলরক্ষক দিদাকে আঘাত করে আহত করে। ফলে রেফারি ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
রুই কস্তা ও মাতেরাজ্জির বিখ্যাত ছবিটি কে তুলেছিলেন?
তৎকালীন রয়টার্সের আলোকচিত্রী স্তেফানো রেলান্দিনি এই ঐতিহাসিক ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন।
সেই কোয়ার্টার ফাইনাল টাইয়ের চূড়ান্ত ফল কী হয়েছিল?
ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর এসি মিলানকে মোট ৩-০ গোলের অগ্রগামিতায় টাইয়ের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।


